বিশ্ব নারী দিবস- টাওয়ার হ্যামলেটসের একজন মা রাবিনা খান এবং পরিবর্তনের জন্য অঙ্গীকার


বিশ্ব নারী দিবস- টাওয়ার হ্যামলেটসের একজন মা রাবিনা খান এবং পরিবর্তনের জন্য অঙ্গীকার

লন্ডন টাইমস নিউজঃ  আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস যখন দোয়ারে কড়া নারে কিংবা সারা বিশ্বের যখন একযোগে পালিত হয়, তখন এই ব্রিটেনের  বাঙালি অধ্যুষিত এবং সব চেয়ে অবহেলিত আর অনগ্রসর এই বারায় তিন সন্তানের জননী রাবিনা খাতুন এই বারার শিশুদের এবং কিশোর ও যুবক-যুবতীদের  জীবন মান উন্নয়ন আর কর্মে প্রেষিত করে, উজ্জীবিত করে, নতুন নতুন ডাইমেনশনের সাথে পরিচিতি অব্যাহত, সেই সাথে এপ্রিন্টেশিপ সহ নানাবিধ সার্ভিস চালু রাখার পক্ষে নিরলস ক্যাম্পেইন করে চলেছেন।রাবিনা খাতুন তাই তরুন-তরুনীদের মূলধারার সার্ভিস পুরোপুরি সম্পৃক্ত করার এবং তাদের জন্য যাতে সেগুলো অব্যাহত থাকে, পরিবারের জীবন মান যাতে উন্নত করা যায়- সেই চেষ্ঠা তাই তার নিরন্তর।

 

২০১০ সালে প্রথম নির্বাচিত হন  হাউজিং এবং রিজেনারেশনের কেবিনেট মেম্বার হিসেবে প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে। রাবিনা হাউজিং সহ ডিজএবলদের জন্য সার্ভিস প্রদান আর তার  কাজের ক্রমাগত  স্বীকৃতি হিসেবে সানডে টাইমস এওয়ার্ডে ভুষিত হন –  সব চাইতে উত্তম কাউন্সিল এস্টেট পরিণত করার জন্য, একই সাথে ইংল্যান্ডের  অন্যান্য কাউন্সিলের চেয়ে বেশী উত্তম কাউন্সিল এস্টেট প্রদান অব্যাহত রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ন্যাশনাল এওয়ার্ডে ভুষিত হন।

 

পাশাপাশি রাবিনা খান  বিবিসি, আইটিভি, রিচ মিক্স কালচারাল ফাউন্ডেশন এবং ওয়েলকাম ট্রাস্টের ফ্রি ল্যান্স ক্রিয়েটিভ কনসান্ট্যান্ট  ছাড়াও একজন মুসলিম মহিলা ক্যাম্পেইন  প্রতিনিধি হিসেবে চলচ্চিত্র, মিডিয়া, প্রযোজনা ও লেখালেখি করেন।

 

বিগত ২০০৯ সালে  ব্রিটিশ ফরেন অফিস আয়োজিত কাউন্টার টেরোরিজম স্ট্র্যাটেজি টিমের সদস্য হয়ে বাংলাদেশ ডেলিগেশন টিমে সঙ্গী হয়ে অংশ নিয়েছিলেন।

 

২০১২ সালে  বিবিসি রেডিও ফোরের জন্য রয়াল সোসাইটি অব আর্টসে মাল্টিকালচারালিজমের উপর বক্তব্য রাখেন-  যা ঐ সময়ের মধ্যে উভয়ের মধ্যেকার  উত্তরণ ও মেরুকরনে  গভীর রেখাপাত করে।

 

রাবিনা খান টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের  সোশ্যাল এবং এডুকেশন সেক্টরে কাজ করেন- যেখানে সরকারের রিজেনারেশন উদ্যোগ আর নারীর ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতা আর  এথনিক মাইনোরিটির নারীদের প্রকল্প  পরিচালিত হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস বারার শিশুদের এবং ইয়থ সার্ভিস অব্যাহত আর নার্সারী বন্ধ না করার ক্যাম্পেইনে রাবিনা খানের সাথে যখন দেখা হয়, তখন সত্যি অভিভুত হয়ে যাই। এরকম এক নারী যিনি অন্যদের অনুপ্রানীত করেন, পরিবর্তনের অঙ্গীকারের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে, যিনি দিনে রাতে, সকালে, বিকেলে মধ্যাহ্নে যখনই সময় সুযোগ আসে, পরিবর্তনের কাজে, নার্সারী ছেলে মেয়েদের, শিশুদের জীবন মান উন্নয়ন আর নারীদের সমতা আর উন্নয়ন, ইয়থ সেন্টারে ইয়থদের জন্য চালু রাখার ক্যাম্পেইন- এ এক অভূতপূর্ব অনুপ্রেরণামূলক কাজ- যা আপনি না দেখলে উপলব্ধি করতে পারবেন না। যিনি শুধু ক্যাম্পেইনে সীমাবদ্ধ নেই, সরকারের ভেতরের সার্কেলের সাথে  লিয়াজো এবং বাস্তবায়নের  জন্য দরকষাকষির সব মাধ্যমে যতোটুকু সম্ভব সাধ্যমতো প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন।

 

এক প্রশ্নের জবাবে রাবিনা বলেন, স্কুল জীবন থেকে ছোট ছোট এবং গ্রুপ ভিত্তিক কাজের অংশ গ্রহনের মাধ্যমেই পরিবর্তনের প্রচেষ্ঠার সাথে শরিক হন।  সেকেন্ডারি স্কুল আর উচ্চ শিক্ষার গন্ডী পেরিয়ে ২০১০ সালে তার জীবনে সুযোগ আসে কাউন্সিলর হিসেবে দাড়ানোর- যা সরাসরি তাকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করে এবং কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে তিনি  সফলতাও পেয়ে যান।ওই সময়ে তার ক্যাম্পেইনের সাথের নানা গ্রুপ, বন্ধু, পরিবার এবং মহিলারা ব্যাপক এক সমর্থন সাপোর্ট তাকে যুগিয়েছেন।

 

রাবিনার মতে, টাওয়ার হ্যামলেটস  কাউন্সিল ক্রমেই সেলফ ফাইন্যান্সিং হচ্ছে- যেখানে কেন্দ্র থেকে গ্র্যান্ট ক্রমেই হ্নাস পাচ্ছে। তার মানেই হলো আমাদেরকে  আরো অধিক বিজনেস রেইট রিজেনারেট করে  আয় বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদেরকে আরো নিশ্চিত করতে হবে স্থানীয় অর্থনীতি যাতে আরো মজবুত হয়- সকলের জন্য সমানভাবে। আর ব্রেক্সিটকে মাথায় নিয়েই আমাদেরকে আরো অধিক ভালো ব্যবসায়িক রেইট রিজেনারেটের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে সবার জন্য  বারাতে বিনিয়োগের সংস্থান ও বৃদ্ধি এবং সেই সাথে বারার পরিবার, শিশু, ইয়থদের জন্য সার্ভিস প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।

 

বিগত মেয়রাল ইলেকশনের প্রসঙ্গে রাবিনা খান বলেন, ২০১৫ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচনে আমি ২৬০০০ ভোট পেয়েছিলাম কিন্তু ঐ সময় নানাবিধ অসামঞ্জস্যতা, আমার নামে নেতিবাচক  প্রচার প্রপাগান্ডা আর  আমাকে বা আমার নামকে এক ধরনের  পাপেট হিসেবে অতিরঞ্জিত করে প্রচার-যারা মূলত  প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কৌশলে আমার নামে ব্যবহার করে নেতিবাচক এক মিথ ও প্রচারনা ছিলো বিপক্ষে।

 

বর্তমানে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে মোটা দাগের হরফে আমার নিজেকে ডিফাইন করতে আর সেই সাথে আরো অধিকভাবে এখন স্ট্রেন্থ নিয়ে আমি আছি- এই বারার সকলের জন্য, সকলের কাছে, পরিবর্তনের বার্তাটি নিয়ে।

 

উল্লেখ্য রাবিনা এই মুহুর্তে লন্ডন হসপিটালের কোয়ালিটি এবং প্রি ও পোস্ট ন্যাটাল  সার্ভিসে, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য ক্যাম্পেইন করছেন।

 

রাবিনার  মতে, নারী হিসেবে আমরা অনেক সময় অনেক উপদ্রব, অনেক বহুমুখী সমস্যার মুখোমুখি হই, কখনো কখনো অযাচিত ভাবে,  কিন্তু  আমাদের একে অন্যকে সমর্থন দরকার- সমান প্ল্যাটফর্মে  পৌছার জন্য। 

Rabina Khan 300

বি বোল্ড ফর চেইঞ্জ-

২২শে মার্চ রাবিনার সাথে মিলিত হউন- বারার মেয়ে শিশু আর নার্সারী  কাট থেকে রক্ষার জন্য গার্ল গ্যাং ক্যাম্পেইনে, যেখানে ২০০০ এর উপরে পিটিশনে স্বাক্ষর হয়েছে, আপনিও শরিক হউন। আমরা চাই মায়েরা কাউন্সিলকে তাদের সার্ভিস এর জন্য সচেতন হয়ে জানিয়ে দিন- কাট নয়, সার্ভিস অব্যাহত রাখার।

 

Syed Shah Salim Ahmed

9th March 2017, London

 

 

 

 

আমাদের ইউটিউব ভিডিও

gif

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ’s blog

Adnnn ................................................................................. Adnnn

Beautiful Bangladesh

Ad Space

............................................................... Aaadadddd222 ............................................................... 5436 ............................................................... addtext_com ............................................................... Citygate-Advert ............................................................... pco_addv ............................................................... quick_Cover_add ............................................................... liberty_logo ............................................................... ad ............................................................... addtext_com_MjA1NzQ5MTY0ODcx ............................................................... 598689
[category_posts category="জাতীয়"]

সংবাদ আর্কাইভ

Ad11 ............................................................... Ad2222 ............................................................... Add444 copy

related stories


Skip to toolbar