আরও একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল ‘বেলা’

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০

আরও একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেল ‘বেলা’

বেগম টুয়েন্টিফোর।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়ায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সম্মানজনক `ট্যাংগ পুরস্কার’ পেয়েছে। আইনের শাসন ক্যাটাগরিতে তাইওয়ানভিত্তিক দ্য ট্যাংগ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বেলা, কলম্বিয়ার দ্য জাস্টিসিয়া ও লেবাননের দ্য লিগাল এজেন্ডা নামের সংগঠনকে যৌথভাবে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) পুরস্কার কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জুয়ান রং ইয়েহ সংগঠন তিনটির নাম ঘোষণা করেন। এই পুরস্কারের জন্য সংগঠনগুলোকে যৌথভাবে ১৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেয়া হবে। একইসঙ্গে গবেষণার জন্য তারা তিন লাখ ৩০ হাজার ডলার পাবে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি দেয়া হবে।

এ বিষয়ে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে বৈষম্য থাকলেও আমাদের দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভালো অগ্রগতি হচ্ছে। এই প্রাপ্তি মানুষের অধিকার রক্ষায় সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা তৈরিতে আরও ভালো কাজ করার দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাইওয়ানের বেসরকারি উদ্যোক্তা ডক্টর স্যামুয়েল ২০১২ সালে এ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু করেন। ২০১৪ সাল থেকে আইনের শাসন, টেকসই উন্নয়ন ও জৈবপ্রযুক্তি বিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তারা এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। পুরস্কারটি এবারই প্রথম পেল বাংলাদেশের কোনো সংগঠন।

বাংলাদেশের বেলাকে এই পুরস্কার দেয়ার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে ট্যাংগ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষার দিক থেকে দুর্বল অবস্থায় থাকা এবং আইনের শাসনের নানা ঘাটতিতে থাকা একটি পরিস্থিতিতে বেলা কাজ করছে। আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তারা একইসঙ্গে জনস্বার্থে মামলা করছে। আবার জনসচেতনতা তৈরিতে নানা প্রচারণা ও গবেষণা করছে। তারা এ পর্যন্ত ৩০০টিরও বেশি জনস্বার্থমূলক মামলা পরিচালনা করেছে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ খালগুলো দখলমুক্ত করতে আইনি লড়াইয়ে নামে বেলা। খালগুলোর পানিপ্রবাহ ঠিক করতে বেলা উচ্চ আদালতে মামলা করে। উচ্চ আদালত সরকারকে ওই খালগুলো দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করার জন্য নির্দেশ দেয়। ঢাকার বিপুল পরিমাণে মানুষ প্রতি বছর বর্ষায় যে জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে, তা থেকে রক্ষায় মামলা একটি আদর্শ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

১৯৯২ সালে ড. মহিউদ্দিন ফারুকের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বেলা দেশে পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। বেলার উদ্যোগের কারণে সংবিধান ও আইনের ইতিবাচক ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেশে জনস্বার্থমূলক মামলার স্বীকৃতি আসে। স্বীকৃতি আসে পরিবেশের অধিকারের, যা সংবিধানে জীবনের অধিকারের অংশ উল্লেখ করে আদালত রায় প্রদান করেন।

সংগঠনটি ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবহার ও আমদানি রোধ, বর্জ্য ঝুঁকিতে থাকা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, পানির অধিকার রক্ষা, নদী দখল ও দূষণ রোধ, জলাশয় রক্ষা, শিল্প দূষণ, যানবাহনের দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ রোধ, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও খনিজ আহরণ রোধ, ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও কীটনাশকের ব্যবহার রোধ, পাহাড়-বন-কৃষি জমি রক্ষার কাজে নিরলসভাবে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতোপূর্বে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেলা ২০০৩ সালে ইউনেপ-এর গ্লোবাল ৫০০ রোল অব অনার্স পুরস্কার, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ পুরস্কার, ২০০৯ সালে এম সলিমুল্লাহ মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল পুরস্কার পেয়েছে। এছাড়াও বেলার প্রধান নির্বাহী ২০০৯ সালে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্ট পুরস্কার এবং ২০১২ সালে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার অর্জন করেন।