বন্দিদশা থেকে মুক্তি, আনন্দে ঘোড়ায় চড়ে বেড়ালেন ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথ

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

বন্দিদশা থেকে মুক্তি, আনন্দে ঘোড়ায় চড়ে বেড়ালেন ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথ

ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউন শিথিল করা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বহুবার সতর্ক করেছিলেন। সেভাবে কানে তোলেনি ব্রিটিশ প্রশাসন। সপ্তাহের শুরুতে ব্রিটেনে লকডাউন উঠতেই পথেঘাটে, সমুদ্রসৈকতে ভিড় তো চোখে পড়লই, দীর্ঘদিন পর দেখা গেল রানি এলিজাবেথকেও। উইন্ডসর ক্যাসলের বাইরে ঘোড়ায় চড়ছেন তিনি। সেই ছবি নিমেষেই ক্যামেরাবন্দি হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সেই ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতে ব্রিটেনের বাকিংহাম প্যালেস থেকে সপরিবারে রানি এলিজাবেথকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শহরের বাইরে উইন্ডসর ক্যাসলে। কারণ, বাকিংহাম প্যালেসের দুই কর্মীর শরীরে ধরা পড়েছিল COVID-19’এর জীবাণু। তাই সাবধানতা অবলম্বনে ওই পদক্ষেপ রাজ পরিবারের। ব্রিটেনে লকডাউন জারি হওয়ার আগে সেদিনই তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। গাড়িতে দুই প্রিয় পোষ্য ক্যান্ডি আর ভালকানকে নিয়ে বাকিংহাম রাজপ্রাসাদ ছেড়েছিলেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ।তারপর থেকে তিনি এবং রাজ পরিবারের প্রত্যেক সদস্য কঠোরভাবে লকডাউন নিয়ম পালন করেছিলেন। যদিও তার মাঝেই রাজকার্য সামলেছেন তিনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত ফোনে দেশের পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। এমনকী বরিস জনসন যখন নিজে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি ছিলেন, তখনও রানি এলিজাবেথ নিয়মিত তাঁর খোঁজ নিয়েছেন।

ব্রিটেনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও, সোমবার থেকে লকডাউন শিথিল করার পথেই হেঁটেছে বরিস জনসনের সরকার। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী মহল আপত্তি তুললেও, শোনেননি জনসন। এখন ইংল্যান্ডের আবহাওয়া চমৎকার। রোদ ঝলমলে, ঠান্ডা কিছুটা কম। তাই গৃহবন্দিদশা থেকে ছাড় পেয়ে মানুষজন রাস্তায় তো বেরিয়ে পড়েছেনই, সমুদ্রতটেও সানবাথ নেওয়ার ভিড় জমেছে। যা উদ্বেগের বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সে যাই হোক, এতদিন পর ঘরের বাইরে বেরতে পেরে বাঁধভাঙা আনন্দ সকলের মনে। ব্যতিক্রম নন রানিও। ধূসর ওভারকোট, সাদা ট্রাউজার পরে, রঙিন স্কার্ফে মাথা ঢেকে ঘোড়সওয়ার হলেন তিনি।

এমনিতে রানি এলিজাবেথের ঘোড়ায় চড়ার শখের কথা সর্বজনবিদিত। মাঝেমধ্যে তাঁকে রেসের মাঠেও দেখা যায়। নবতিপর রানি তা বেশ উপভোগও করেন। ফলে এতদিন প্রাসাদবন্দি দশা থেকে বেরিয়ে প্রিয় ঘোড়ার পিঠেই চড়ে বসলেন এলিজাবেথ। আর চিত্রগ্রাহকদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ এড়াতেও পারলেন না। তাঁর হাসি মুখ থেকেই স্পষ্ট, কতটা আনন্দিত তিনি। তাহলে কি দ্রুতই বাকিংহামে ফিরছেন তাঁরা? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখনও জানা যায়নি।