চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক মকবুলা মনজুর

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক মকবুলা মনজুর

বেগম টুয়েন্টিফোর।চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক মকবুলা মনজুর (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মকবুলা মনজুর দীর্থদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে, দুই ছেলেসহ বহু স্বজন-অনুরাগী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের সভাপতি দিলারা মেসবাহ। তিনি বলেন, মকবুলা মনজুর দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। শুক্রবার উত্তরায় নিজ বাসভবনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি আরো বলেন, মকবুলা মনজুর আজীবন লড়াই করে গেছেন। কিন্তু কখনো নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। লেখিকা সংঘের সব আয়োজনে তিনি অসুস্থ শরীর নিয়েই ছুটে আসতেন। সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগ এমনই ছিল।

মকবুলা মনজুরের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাইয়ে। তাঁর বাবার নাম মিজানুর রহমান ও মায়ের নাম মাহমুদা খাতুন। বাবা মিজানুর রহমান লেখালেখি করতেন। তাঁরা সাত ভাই-বোন। কিশোরী বয়সে তিনি নাটকে অভিনয় করতেন।

মকবুলার সাহিত্যচর্চা শুরু হয় আট বছর বয়স থেকে। তখন তিনি ছড়া লিখতেন। ১৮ বছর বয়স থেকে তিনি গদ্যসাহিত্যে অনুরাগী হন। তিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা সাহিত্যে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট, নারীবাদী চেতনা নিয়ে তাঁর কলম ধরেন। তিনি তাঁর কালের মন্দিরা উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ওপর অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরেন।

মকবুলা মনজুর রচিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- কালের মন্দিরা, আর এক জীবন, অবসন্ন গান, আত্মজা ও আমরা, প্রেম এক সোনালী নদী, বাউল বাতাস, ছায়াপথে দেখা, সায়াহ্ন যূথিকা, নক্ষত্রের তলে।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2020
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031