কপালে ‘খড়গ’ ঝুলছে অনুদানের সিনেমার

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

কপালে ‘খড়গ’ ঝুলছে অনুদানের সিনেমার

শাকিল মাহমুদ।তরুণ নির্মাতাদের সিনেমা নির্মাণে উৎসাহ দিতে এবং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও ইতিহাসনির্ভর ঐতিহ্য তুলে ধরতে যেসব সিনেমা অন্যতম ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট সরকার সেসব সিনেমা নির্মাণের জন্য অনুদান প্রদান করে থাকে তথ্য মন্ত্রণালয়। তারই লক্ষ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৫ জন নির্মাতাকে অনুদান প্রদান করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ জন নির্মাতাকে অনুদান প্রদান করা হয়। যা এবার বেড়ে পাঁচগুণ হয়েছে। অনুদানকৃত অর্থও বাড়িয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এ অনুদান দেয়াই কি শেষ নাকি চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়ে জবাবদিহিতার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়েছে?

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুদান নীতিমালা থেকেই জানা যায়, অনুদানের প্রথম প্রাপ্তির নয় মাসের মধ্যে সিনেমার কাজ শেষ করতে হবে। জরুরি অবস্থায় বিশেষ করে স্ক্রিপ্টের প্রয়োজনে সরকার এ সময় সীমা বৃদ্ধি করতে পারে। দেখা যায় অনুদানে নির্মিত বেশির ভাগ সিনেমার কাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে জানতে যোগাযোগ করা হয় তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (চলচ্চিত্র ১ ও ২) মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি মেলা প্রতিবেদককে জানান, নীতিমালা অনুযায়ী নয় মাসের মধ্যেই সিনেমার কাজ শেষ করতে বলা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে একেবারে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এ সময় বৃদ্ধি করা হয় না। তবে যাদের এ সময়ের মধ্যে সিনেমার কাজ শেষ না হয় তাদের কারণ দর্শানো নোটিস দেই। তাতে যুক্তিযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলে মামলাও করা হয়। কয়েকজন নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকতার সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হয় গত অর্থবছরের অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা অলাতচক্রর নির্মাতা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। বাংলা ভাষার সিনেমার ইতিহাসে প্রথম থ্রি ডি সিনেমা বাংলাদেশের ‘অলাতচক্র’। দুই বাংলার এই সময়ের দর্শক নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান এই সিনেমার তায়েবা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যে সিনেমাটি নিয়ে উৎসাহ লক্ষণীয় হলেও নানা সংকটে মুখোমুখি হতে হয় নির্মাতাকে। ফলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিনেমার কাজ শেষ করতে পারেননি। তবে আবেদন করে বিশেষ প্রয়োজনে বাড়তি সময় দেয়া হয় সিনেমার নির্মাতাকে। বর্তমানে সিনেমাটি সেন্সরবোর্ডে জমা দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সাহিত্যিক আহমদ ছফার মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস অলাতচক্র- অবলম্বনে একই নামে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, আহমেদ রুবেল, আজাদ আবুল কালামসহ আরো অনেকে।

ইতোমধ্যে কাজ শেষে প্রিভিউ করে সিনেমাটি মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনো সিনেমাটি সেন্সরবোর্ডে কেন জমা দেয়া হয়নি? জানতে চাইলে নির্মাতা হাবিবুর রহমান বলেন, আমার সিনেমাটিতে সহযোগী প্রযোজক হিসেবে কেউ নেই তাই পুরো সিনেমাটিই অনুদানের অর্থের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতায় অনুদানের টাকায় সিনেমা নির্মাণ সম্ভব নয়। ফলে ধারদেনা করে কাজ করতে হয়েছে। যার কারণে সেন্সরে দিতে দেরি হচ্ছে। কোভিড পরিস্থিতিতে সিনেমার চূড়ান্ত কাজ আটকে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সব কিছু সীমিত আকারে চললেও সিনেমা হল খোলার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। হলগুলো খোলা হলেও দর্শক কতটা হলমুখী হবে তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, সিনেমাটি নির্মাণ করতে গিয়ে আমাকে অনেক টাকা ধার করতে হয়েছে। করোনার এ সময়ে আমার কোনো কাজ নেই। সিনেমাটিও কবে মুক্তি দিতে পারব তার নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। তবে ২০২১ সাল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তিতে সিনেমাটি মুক্তির ব্যাপারে কিছুটা আশাবাদী। অন্যদিকে অনুদান প্রাপ্ত আরেকটি সিনেমা গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘গোর’। ইতোমধ্যে সকল প্রকার কাজ শেষ করে সিনেমাটি সন্সরবোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে করোনাকালীন এ সময়ে সিনেমা হল খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় কবে মুক্তি পাবে সিনেমাটি তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আর্কাইভ

April 2021
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930