যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন!

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন!

বেগম, রংপুর।যৌতুকের টাকা আদায়ে পাষণ্ড স্বামী জুয়েল মিয়া (৩৫) তার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম মুন্নির (২৮) হাত-পা বেঁধে মারধর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূকে হাত বাঁধাসহ আহত অবস্থায় উদ্ধার করলে তার পরিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বর্বর নির্যাতনের এ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের কাজীরপাড়া গ্রামে। ঘটনার পর থেকেই জুয়েলের পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কাজীরপাড়ার মৃত ডিপটি মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া রংপুর নগরীর ধর্মদাস মিলনপাড়ার নুরুল ইসলামের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম মুন্নিকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ১০ বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর জুয়েলকে মোটা অংকের যৌতুক দিলেও আরো দুই লাখ টাকা দাবি করে মুন্নিকে প্রায়ই মারধর করতেন তিনি। অসহায় মুন্নির পরিবার ওই টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মুন্নিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও অংশ নেয়।

একপর্যায়ে গত সোমবার সকালে মুন্নির স্বামী, ননদ ও শ্বাশুড়িসহ কয়েকজন তার হাত-পা বেঁধে বেদম মারপিট করে বাড়িতেই ফেলে রাখে। এ খবর পেয়ে মুন্নির বাবার বাড়ির লোকজন পীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় হাত বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করায়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় মুন্নির বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে জুয়েল মিয়াসহ তিনজনকে আসামি করে মঙ্গলবার থানায় মামলা করেছেন। মামলার বাদী নুরুল ইসলাম বলেন, পাষন্ডরা আমাকে মুন্নির মৃত্যুর খবর দিয়েছে। এসে দেখি তাকে হাত-পা বেঁধে বাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মাসুমুর রহমান ওই ঘটনায় মুন্নির স্বামী, ননদ ও শাশুড়িকে আসামি করে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার সন্ধ্যায় জানান, ঘটনাটি নির্মম। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।