মানুষ কিছুটা দমেছে, তবে শোধরাচ্ছে না

প্রকাশিত: ২:৫১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

মানুষ কিছুটা দমেছে, তবে শোধরাচ্ছে না

শরীফা বুলবুল।ফরিদা পারভীন। লালন সংগীতের অদ্বিতীয় কিংবদন্তিশিল্পী। লালন সাঁইজির গানের প্রসঙ্গ এলেই বাঙালির কানে প্রথমেই যার সুর বেজে ওঠে, তিনি ফরিদা পারভীন। সংগীত জীবনের ৫৩ বছরের সাক্ষী এই শিল্পী শুধু লালনের গান নয়, গেয়েছেন আধুনিক ও দেশাত্মবোধকও। দেশে-বিদেশে সম্মানিত এই শিল্পীর জীবন নিয়ে গবেষণা করছেন ফ্রান্সের গবেষক ড. এলেন পিয়ারো। ফরিদা পারভীন সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও এশিয়ার নোবেল খ্যাত ফুকুওয়াকা আর্ট এন্ড কালচারাল প্রাইজ পান।

বিশিষ্ট এই শিল্পীর করোনাকাল কেমন কাটছে – এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, করোনা তো সবই স্তব্ধ করে দিয়েছে। মনটা বিষণ্নতায় ভরে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরবন্দি। খুব প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছি না। পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটছে। হাতে অফুরন্ত সময়। সন্তানদের কাছাকাছি থাকছি। তাদের দেখাশোনা করতে পারছি। তিনি বলেন, জীবন তো থেমে থাকবে না। তাই যতটাসম্ভব মনোবল শক্ত রেখে চর্চাটা করছি। এখন এই ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে আরেক নতুন সংযোজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছি। কথা বলছি, গান করছি।

কদিন আগে কথা বললাম লন্ডনের একটা বাংলা টিভি, কানাডার একটা বাংলা টিভির সঙ্গে। চ্যানেল আইতে ‘গানে গানে সকাল’ করলাম। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছি। গানের সঙ্গেই আছি। তবে মনের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কও কাজ করছে। ভেতরে অসহায়ত্ব বিরাজ করছে। তা শুধু আমার জন্য নয়, সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য।

এই শিল্পী আরো বলেন, করোনার কারণে মানুষ কিছুটা হলেও দমেছে। কিন্তু শোধরাচ্ছে না। আত্মশুদ্ধি লাভ করতে পারছে না। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আমরা সবাই সবাইকে সহযোগিতা করতে পারব। বলা হয়ে থাকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হচ্ছে মানুষ। সেই মানুষকে ক্ষুদ্র একটা ভাইরাস এসে দহন করছে। প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এর তাণ্ডবে নাজেহাল বিশ্বের মানুষ। এর সঙ্গে লড়তে গিয়ে দিশেহারা এই শ্রেষ্ঠ জীব। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব এখন সবচেয়ে সংকটে রয়েছে। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব যেন বিনাশ হতে চলেছে। তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে আমাদের অনেক ভুলভ্রান্তি আছে। সত্যের সঙ্গে মিথ্যাকে জড়িয়ে নিচ্ছি।

করোনার কারণে চেনা পৃথিবী কতটা বদলে গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভয়ঙ্করভাবে বদলে গেছে। পিতামাতা সন্তানাদির করোনা হলে সেখানে যাওয়া হচ্ছে না। স্বামীর কাছে স্ত্রী যেতে পারছে না। এ এক ভয়ঙ্কর জগৎ। তাই আমাদের আরো সাবধান ও সচেতন হতে হবে।

বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা– জানতে চাইলে বিশিষ্ট এই লালন শিল্পী বলেন, মনে হচ্ছে করোনা আমাদের নতুন জগৎ তৈরি করে দিয়েছে। এর আগে বহু মহামারি এসেছিল। চলেও গেছে। করোনাও হয়তো চলে যাবে। কিন্তু এর ভয়ঙ্কর রূপ নাড়িয়ে দিচ্ছে গোটা পৃথিবীকে। তবে নতুন একটা পৃথিবী আসবে। আমি নাও থাকতে পারি। তবু ওই পৃথিবীর অপেক্ষায় আছি।