আমরা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার: পাপুলের স্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:০১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

আমরা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার: পাপুলের স্ত্রী

বেগম, ঢাকা।’আমরা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাদের কোনো অবৈধ সম্পদ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। আমরা তাদের সহায়তা করছি। তদন্তেই সব বেরিয়ে আসবে।’

বুধবার দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন কুয়েতে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুরের এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৪৯ নম্বর মহিলা আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদক উপ-পরিচালক মো, সালাহউদ্দিন।

এই কর্মকর্তা এমপি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক পাপুলসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে  অবৈধভাবে গ্রাহককে ঋণ বরাদ্দ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মানিলন্ডারিং করে বিদেশে পাচার এবং শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগটি  অনুসন্ধান করছেন।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগটির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বুধবার পাপুলের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুল বর্তমানে কুয়েতের কারাগারে আছেন। এই কারণে মূল অভিযুক্ত এই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো সুযোগ সৃষ্টি হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এখন দুদক রেকর্ডভিত্তিক নথিপত্রের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে।

বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কুয়েতে পাপুলের প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সেই প্রতিষ্ঠানে দেশের বহু শ্রমিকও কাজ করে কোটি কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন।’

কুয়েতে পাপুলের গ্রেফতার নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রের কারণে কুয়েতে তিনি (পাপুল) সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। মূলত পাপুল ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এসব করা হচ্ছে।’

অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে সেলিনা ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের বিষয়গুলো নিয়ে দুদকের কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমাদের কোনো গোপন বা অবৈধ সম্পদ নেই।  যা আছে তার বিবরণ দুদককে দিয়েছি। তারা তদন্ত করছে, তদন্ত আমরা সহায়তা করছি। তদন্তেই সব বেরিয়ে আসবে।’

মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৬ জুন এমপি পাপলুকে গ্রেফতার করেছে কুয়েত ক্রিমিনাল  ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডি। তিনি বর্তমানে দেশটির কারাগারে আছেন। গোয়েন্দাদের রিমান্ডে পাপুলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কুয়েতের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে পাপুলের নামে জমা থাকা ১৩৮ কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে।