কারও কারও আচরণে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়: শিপ্রা

প্রকাশিত: ১:১৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২০

কারও কারও আচরণে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়: শিপ্রা

বেগম, ঢাকা।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকের আচরণে মর্মাহত হয়েছেন নিহত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদের সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথ ও তার পরিবার। শুক্রবার রাতে শিপ্রা বলেন, ‘আমি সাধারণ মেয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও কারও আচরণে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়।’

এ ছাড়া শিপ্রা ‘নতুন ষড়যন্ত্রের’ শিকার বলে অভিযোগ করেছেন তার ভাই শুভজিৎ দেবনাথ। তিনি বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় শিপ্রাকে টার্গেট করে একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে। তার ব্যক্তিগত চরিত্র হননের চেষ্টা করছে তারা।

শিপ্রা দেবনাথ বলেন, ‘যখন দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়ায় নকল জাস্ট গো নামে ডকুমেন্টারি তৈরি করে অনেকে প্রচার করছেন, তখন ভাবলাম আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তখন চিন্তা করলাম আসল তথ্য সবাইকে জানাই। সেই জায়গা থেকেই ভিডিও আপলোড করেছিলাম। যখন দেখলাম মানুষ এটা ভালোভাবে নেয়নি, তখন ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা রিমুভ করে দিয়েছি। অনেকে ধারণা করেছিল, এটা আমার ব্যবসা ছিল। অনেকে আমাকে ভুল বুঝেছিল। তাই তাদের সম্মান জানিয়ে ওই ভিডিও সরাতে খুব অল্প সময় নিয়েছি।’

শিপ্রা আরও বলেন, ‘এটা ঠিক আমি পাবলিক ফিগার নই। জাস্ট গো সোশ্যাল মিডিয়ায় যাওয়ার পর রাতারাতি পাবলিক পার্সোনালিটি পরিণত হই। এটা আমি চাইনি। আমাদের স্বপ্ন বাঁচাতে ভিডিও আপলোড করেছিলাম। কিভাবে এ ধরনের কাজে সাধারণ মানুষকে হ্যান্ডেল করতে হয় এটা আমার জানা ছিল না। এখনও নেই।’

শিপ্রা আরও বলেন, ‘কক্সবাজারে যে ঘটনা ঘটেছে সবাই তার ন্যায়বিচার চাচ্ছে। আমিও ন্যায় বিচারের প্রতীক্ষায় রয়েছি। এর বাইরে আমার আর কোনো কথা নেই।’

শিপ্রার ভাই শুভজিৎ কুমার দেবনাথ বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে শিপ্রার পার্সোনাল ছবি দিয়ে তাকে ‘খারাপ’ বলে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে গত বুধবার শিপ্রা যখন ইউটিউবে ‘জাস্ট গো’ নামে সেই ডকুমেন্টরি কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন তখন থেকে আমার বোন কিছু খারাপ মানসিকতার মানুষের শিকার হন।’

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ‘জাস্ট গো’ নামে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ডকুমেন্টরি তৈরির কাজে তিন সহকর্মীকে নিয়ে তিনি কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। তারা হলেন- শিপ্রা দেবনাথ, তাহসিম সিফাত নূর ও সাহেদুল ইসলাম সিফাত। সেখানে নীলিমা রিসোর্টে তারা এক মাস ধরে অবস্থান করেছিলেন।