খালেদা জিয়ার জন্মদিনে চীনা দূতাবাসের উপহার

প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২০

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে চীনা দূতাবাসের উপহার

বেগম ঢাকা।বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের উপহারের বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।এর আগে চীনা দূতাবাস কখনও জন্মদিনের উপহার পাঠায়নি। এ বছরই প্রথম উপহার পাঠানো হয়েছে।এমনিতেই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি নেত্রী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৯৪৭ সালের ১৯ আগস্ট বলে জানানো হয়।

ওই সময়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত দৈনিক বাংলাতেও খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট উল্লেখ করা হয়। ১৯৯১ সালের আগে খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেননি। ফলে এই দিনটি তার সঠিক জন্মতারিখ, নাকি শুধু বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ তারিখে জন্মদিন পালন করা হয়- তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

তবে, এরকম অবস্থায় এ বছর ঢাকায় চীনা দূতাবাস থেকে খালেদা জিয়ার জন্য উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ৭০তম জন্মবার্ষিকীর পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সদ্যপ্রয়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অনুরোধ জানিয়েছিলেন, ১৫ আগস্ট যেন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করা হয়। এ বছর খালেদা জিয়ার জন্মদিনে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে তার আরোগ্য কামনায় অনাড়ম্বরভাবে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট বিকেলে উপহার সামগ্রী নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন চীনা দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তা। তারা সুদৃশ্য মোড়কে মোড়ানো উপহার সামগ্রী তুলে দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের কাছে। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তারা খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনা করেন।

জানা গেছে, উপহার সামগ্রী গ্রহণ করার পর তা খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে যোগাযোগ করা হলে বিএনপির কেউ-ই দায়িত্ব নিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। গুলশান কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বিএনপির এক নেতা অবশ্য বলেন, বিষয়টিকে বড় করে দেখার কিছু নেই।

এ ব্যাপারে চীনা দূতাবাসের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। তবে চীনা দূতাবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চলতি বছর বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কর্মসূচি নিয়েছে বেইজিং। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করতে সচেষ্ট দূতাবাস। সম্ভবত সে কারণেই খালেদা জিয়ার জন্য এ বছর জন্মদিনের উপহার পাঠানো হয়। তবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার বিতর্কিত জন্মদিন পালনের বিষয়টি দূতাবাসের অজানা থাকার কথা নয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, চীন সব সময়ই সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়। এটাই দৃশ্যমান। বর্তমান সরকারের সঙ্গে চীনের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। চীন হয়তো সরকারের বিরোধী পক্ষের সঙ্গেও একটা ভালো সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছে। এই উপহার সেজন্যই হতে পারে। এটাকে খুব ছোট একটা কূটনৈতিক যোগাযোগই মনে হচ্ছে। এই উপহার পাঠানোকে কোনো ধরনের ইঙ্গিতবাহী কিছু মনে হচ্ছে না।