সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদে ১০ নারীর নিয়োগ

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২০

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদে ১০ নারীর নিয়োগ

বেগম সৌদি আরব।সৌদি আরবে বেশ কয়েক বছর ধরেই শুরু হয়েছে নারীর ক্ষমতায়নের কাজ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার দুই গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের প্রশাসনে নিয়োগ পেলেন নারী। এর আগে নারীরা গাড়ি চালানো, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, বিয়ে বিচ্ছদের অনুমতিসহ একা একা সিনেমা বা কনসার্টে যাওয়ার অনুমতি লাভ করেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘ভিশন ২০৩০’ নামক এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন যার আওতায় সৌদি আরবে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।  ধরা হচ্ছে তেল নির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ।

উদারিকরণ কার্যক্রমের আওতায় সেদেশে মেয়েরা প্রথমবারের মত গাড়ি চালানোর, কনসার্ট ও সিনেমায় যাওয়াসহ নানা পাবলিক ইভেন্টে অংশগ্রহণের অনুমতি পায়।

এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাপক সংখ্যক নারী নানারকম পেশা বেছে নিতে শুরু করেন। ২০১৯ সালের প্রথম আট মাসের মধ্যেই সৌদি আরবে কর্মজীবি নারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ লাখ যা দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠির ৩৫ শতাংশ।

সৌদি আরবের দুই গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে দশ নারীর নিয়োগ সৌদির ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। মক্কা ও মদীনার দুই মসজিদের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তির মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই দুই মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সৌদি নারীদের ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে উচ্চতর যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি মিডিয়া জানাচ্ছে এর আগে ২০১৮ সালে এই দুই মসজিদে ৪১ নারীকে নেতৃত্বশীল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো।

তবে এসব সংস্কার কার্যক্রমের মধ্যেও চলছে নারী অরধিকারকর্মীদের ধরপাকড় ও জেলে পোরা। গাড়ি চালানোর অধিকারসহ নানা অধিকার চাওয়া অন্তত এক ডজন নারী অধিকারকর্মী এখনও জেল খাটছেন বা বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। কোন কোন অধিকারকর্মী জেরার সময় মারধোর ও যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ারও অভিযোগ করেছেন।