ঘটনার সঙ্গে নারী থাকলেই ‘যথেচ্ছাচার’

প্রকাশিত: ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

ঘটনার সঙ্গে নারী থাকলেই ‘যথেচ্ছাচার’

মানসুরা হোসাইন।কোনো নারী খুন, ধর্ষণের শিকার হলে কিংবা নিজে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে আলোচনা আর মূল ঘটনার দিকে নিবদ্ধ থাকে না। ডালপালা মেলতে শুরু করে অন্যদিকে। ওই নারীর চরিত্র কেমন, তাঁর ব্যক্তিজীবন কেমন ছিল, তা-ই নিয়ে নানা গল্প শুরু হয়। কোনো কোনো সময় এই গল্পের সঙ্গী হয়ে পড়ে গণমাধ্যম। প্রমাণ পাওয়া যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিপত্রেও। আর ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তো আছেই। সেখানে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে ওই নারীকে নিয়ে চলতে থাকে যথেচ্ছাচার, যার সঙ্গে হয়তো ঘটনার দূরতম সম্পর্কও নেই।

একটি এজাহারের ভাষা

গত ৩১ জুলাই কক্সবাজারের শামলাপুর এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ওই ঘটনায় টেকনাফ থানায় ও রামু থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। রামু থানার মামলায় আসামি করা হয়েছিল স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথকে।

১ আগস্ট রামু থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম যে এজাহার দায়ের করেছেন, তা আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিকই মনে হবে। তবে এজাহারটিতে শিপ্রা দেবনাথ সম্পর্কে কিছু শব্দে বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। এজাহারে লেখা হয়েছে, নীলিমা রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় পূর্ব পাশের কক্ষে (যা মাস্টার বেড হিসেবে ব্যবহৃত) আসামি শিপ্রা দেবনাথ অবস্থান করছিলেন। সিনহা মো. রাশেদ খান শিপ্রার ‘একান্ত’ পরিচিত। তাঁরা বেশ কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে ‘একত্রে’ এসে রিসোর্টের ‘একই কক্ষে’ ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন।

ফেসবুকে নারীকে কেউ ট্রল করলে এখন অনেকেই প্রতিবাদ করছেন। জেন্ডার সংবেদনশীল অনেক পুরুষও এ প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন ইফাত নূর গত ৩ জুলাই কক্সবাজারে যান। ‘জাস্ট গো’ শিরোনামে মেজর (অব.) সিনহা যে তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজ করছিলেন, সেখানে কাজ করছিলেন এই তিন শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর থেকে শিপ্রা দেবনাথের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকের আলোচনায় এসেছে। এক পুলিশ সুপার নিজের ফেসবুকে শিপ্রার বেশ কিছু ছবি দিয়ে অযাচিত মন্তব্য করেছেন। সেই পোস্টের নিচে কেউ কেউ ওই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত। তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তা এই পোস্ট দিয়ে আসলে কী প্রমাণ করতে চাচ্ছেন? এতে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের ঘটনা জায়েজ হয়ে যাচ্ছে কি না।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলছিলেন, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বা ভিকটিম—যেকোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে নারী জড়িত থাকলে অতিমাত্রায় মাতামাতি শুরু হয়ে যায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এটা একধরনের বিকার। ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির মতো ঘটনাতেও অপরাধীকে বাদ দিয়ে আলোচনা চলে ভিকটিমকে নিয়ে। এটা নারীকে কোণঠাসা করার একটা ষড়যন্ত্রও। অন্য নারীরা যাতে ভয়ে ঘর থেকে বাইরে বের না হয়, সে ধরনের প্রচ্ছন্ন একটা ইঙ্গিত থাকে।

শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহার প্রসঙ্গে মোখলেসুর রহমান বলেন, মামলার এজাহারে এ ধরনের প্রসঙ্গ আনা একেবারেই অনভিপ্রেত। এ ধরনের ভাষা মোটেই সংবেদনশীল নয়। প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ কার সঙ্গে থাকলেন, তা তো মূল বিষয় নয়। মূল অপরাধকে দৃষ্টির আড়ালে নিয়ে অপরাধকে লঘু করে দেওয়ার কৌশল এটি।

যেকোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে নারী জড়িত থাকলে অতিমাত্রায় মাতামাতি শুরু হয়ে যায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এটা একধরনের বিকার।

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান

স্বামীস্ত্রী একই অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও

স্বামী-স্ত্রী একই অপরাধে অভিযুক্ত, কিন্তু আলোচনায় থাকেন স্ত্রী। সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন জেকেজির চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই জাল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। ১২ জুলাই সাবরিনাকে তেজগাঁও থানায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় সাবরিনার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরী ও তাঁর ভগ্নিপতি সাঈদ চৌধুরীকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে আলোচনায় মামলায় অভিযুক্ত পুরুষ সদস্যরা তেমন পাত্তা পাননি। অথচ করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতি ছাড়াও জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল চৌধুরীর নামে আরও তিনটি মামলা থাকার তথ্য জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১২ সালে রমনা থানায় একটি প্রতারণা মামলাও হয়।

কারাগারে যাওয়ার আগে থেকেই ফেসবুক সয়লাব হয়ে গিয়েছিল সাবরিনার ছবিতে। অনেকেই যুক্তি দেখিয়েছেন, শুধু নারী হওয়ার কারণে সাবরিনা যাতে আলোচনা থেকে বাদ না পড়েন। তবে তাঁরাও আলোচনা করেছেন সাবরিনার সাজপোশাক নিয়েই।

গত ২৮ জুন প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, শুদ্ধি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে র‍্যাব। বাকি তিন মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শামীমা নূর পাপিয়া ও তাঁর স্বামী মফিজুর রহমান বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে র‍্যাব তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এরপর বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি, অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অবৈধ পাঁচ কোটি টাকার খোঁজ পেয়ে পাপিয়া ও তাঁর সহযোগীদের মানি লন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করে। পাপিয়াকে নরসিংদী যুব মহিলা লীগের কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়। গ্রেপ্তার পাপিয়া ও তাঁর সহযোগীরা কারাগারে আছেন।

এ ঘটনাতেও গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম বা ফেসবুকের মুখরোচক আলোচনায় ঘুরেফিরে পাপিয়ার প্রসঙ্গই এসেছে।

অবিবাহিত নারী হলে

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের কথা মনে আছে? ঘটনার শুরুতেই মেয়েটি অনেক জায়গায় সাহায্য-সহযোগিতার জন্য গিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেননি, দগ্ধ হয়ে মারা যান এ শিক্ষার্থী।

গত বছর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসন ও মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত। প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর থানা-পুলিশ নুসরাতকে বিভিন্ন অশালীন প্রশ্ন করে। তারা বিষয়টি হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করে। পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এতে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান বললেন, ধর্ষণের শিকার নারী প্রথমে একবার শারীরিকভাবে ধর্ষণের শিকার হন, এরপর প্রতি পদে পদে ওই নারী মানসিকভাবে ধর্ষণের শিকার হতে থাকেন। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারার ৪ উপধারার ভিত্তিতে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করা হচ্ছে। এতে ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র এবং অতীত ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। আসামিপক্ষের আইনজীবী ধর্ষণের শিকার নারীর নৈতিক চরিত্র হরণ করে যেসব প্রশ্ন করেন, তা আরেকবার ধর্ষণের শামিল।

অপরাধ যা হোক

স্বামী হাসান সাইদের আক্রমণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষক রুমানা মনজুর দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান ২০১১ সালে। সে সময় নাক-মুখের বেশ কিছু অংশ থেঁতলে যায় তাঁর। বছরটিতে কারাগারেই মৃত্যু হয় হাসান সাইদের। সেই রুমানা বর্তমানে কানাডার বিচার বিভাগের একজন আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালে বিয়ের পর থেকেই রুমানা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হন। একমাত্র সন্তানের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সয়ে গেছেন। সর্বশেষ উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় যাওয়া নিয়েই মনোমালিন্য শুরু হয়েছিল।

গ্রেপ্তারের পর হাসান সাইদ গণমাধ্যমের কাছে বলেছিলেন, রুমানার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর এক ইরানি বন্ধুকে মুছে ফেলেছিলেন সাইদ। এ নিয়েই দুজনের মধ্যে হাতাহাতির সূত্রপাত। অর্থাৎ চোখে আঘাত করে দৃষ্টিশক্তি নিভিয়ে দেওয়া হলেও অভিযুক্ত আসামি নিজেই রুমানার চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে কথা বলেছিলেন।
চিত্র আসলে এমনই

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর অনুসন্ধানী দল মে ২০১৮ পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকা জেলার পাঁচটি নারী-শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ছয়টি গুরুতর অপরাধের অভিযোগে আসা মামলার বিচার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে। অপরাধগুলো হলো ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত মৃত্যু ও হত্যা, গণধর্ষণ (মৃত্যু-হত্যাসহ), সম্ভ্রমহানির প্রত্যক্ষ কারণ ঘটিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, যৌন পীড়ন এবং যৌতুকের জন্য হত্যা বা হত্যাচেষ্টা।

প্রায় ১৫ বছরে আসা আট হাজারের কাছাকাছি মামলার বিচার-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি ৬৫টি মামলার নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখে এ দল। অনুসন্ধানী দলের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রথম আলোতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, নারী জড়িত এমন ঘটনায় ‘বাদিনী দুর্ধর্ষ চালাক প্রকৃতির মহিলা’; আসামিদের সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য মামলাটি করেছেন; ‘চাতুর্যতা’, ‘ভিকটিম একজন স্বামী-পরিত্যক্তা গার্মেন্টসকর্মী’; আসামিদের সঙ্গে তার ‘সুসম্পর্ক গড়িয়া উঠে, আসামিরা বিবাহিত হইলেও’ দুজনই মেয়েটিকে ‘ভালোবাসত’; মেয়েটিকে ‘বিভিন্ন স্থানে নিয়া অসামাজিক কাজকর্ম করিত’; মেয়েটির ‘অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত অবস্থায়’ ধরা পড়া; ‘মেয়েটির অতীত চরিত্র ভালো নয়’; ‘পেশাদার যৌনকর্মী’; ‘ধর্ষণ না এটা ছিল ফুর্তি করা’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন পুলিশসহ আইন ও বিচারকাজের সঙ্গে জড়িতরা।

২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘গুরু আমার মনের ময়লা যাবে কেমনে’ শীর্ষক এক লেখায় একটি গণধর্ষণ মামলার তিনজন আসামিকে জামিন দিয়ে অভিযোগকারী নারী সম্পর্কে একজন বিচারকের মন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারকের মন্তব্যটি ছিল, ‘শি হ্যাজ নো বিউটি অর ফিজিক্যাল অ্যাট্রাকশন’, অর্থাৎ গণধর্ষণের শিকার ওই নারীর কোনো সৌন্দর্য বা শারীরিক আকর্ষণ নেই। ধারণাটা এমন যে ধর্ষণের শিকার নারীর সৌন্দর্যটাই আসল বিষয়।

বিজ্ঞাপন

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির লাশ পাওয়া যায়। সাগর তখন মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। মেহেরুন রুনির ছোট ভাই নওশের আলম (রোমান) ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘শুধু ঘটনার সময় নয়, এখন পর্যন্ত আমাদের কত বাজে কথা যে শুনতে হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম সরাসরিই লিখে দিচ্ছে বা প্রচার করছে যে অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই আপা খুন হয়েছেন। যদি খুনের পেছনে এটাই কারণ থাকে, তাহলে তা-ই প্রমাণ করুক, কিন্তু প্রমাণ হওয়ার আগেই তো আপার চরিত্রের নানা দিক আলোচনায় চলে এসেছে।’

নারীর প্রতি অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) একটি বিবৃতি গত ১৯ জুলাই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিবৃতিতে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ‘বিতর্কিত নারী হিসেবে পরিচিত’ বলে উল্লেখ করা হয়। এ প্রসঙ্গে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, একজন নারীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য নারী-পুরুষের সমতা নিশিচতকারী সাংবিধানের মৌলিক অধিকার, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ও বাংলাদেশের সই করা জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও)-এর পরিপন্থী।

বিজ্ঞাপন

নারীকে কথার মাধ্যমে হেয় করার প্রবণতা আগেও ছিল। ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশন টক শোতে কথা বলার একপর্যায়ে আইনজীবী মইনুল হোসেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক মাসুদা ভাট্টিকে আলোচনার একপর্যায়ে ‘চরিত্রহীন’ বলেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে ফোন করে ক্ষমা চান।

অ্যাকশনএইডের দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির বললেন, ‘এসব নিয়ে কথা বলে লাভ কী? বিচারক থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক বিভিন্ন মহল থেকেই নারীকে নিয়ে বাজে কথা বলা হচ্ছে। নারীকে নিয়ে বাজে কথা বললেই তো খুন বা অন্য অপরাধ কমে গেল বিষয়টা তো তেমন না। এখন থেকে নারীদের ভাবতে হবে, এসব বাজে কথা যিনি বলবেন, সেটা তাঁর সমস্যা। কথাগুলো গায়ে না মেখে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে।’

আর্কাইভ

December 2020
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031