আমার মুক্তি আলোয় আলোয়

প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০২০

আমার মুক্তি আলোয় আলোয়

হুমায়রা নাজিব নদী ।

কিছুদিন আগে পরিচিত এক আন্টির সাথে দেখা। আন্টি রিসেন্টলি একমাত্র ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন। আমার সাথে দেখা হতেই এ্যাজ ইউজুয়াল সংসার ধর্মের নানাবিধ প্যাচালি আরাম্ভ করলেন। তো আজকের প্যাচালির বিষয় হচ্ছে তাঁর নতুন বউ এবং বউয়ের বাপের বাড়ি, মানে আন্টির বিয়াই বাড়ি। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে উনার চোখ পড়লো আমার পরনে হিউগো বস্ এর জাম্পস্যুটের উপর। এখানে একটা কথা বলে রাখি, হিউগো বস্ আসলে আমার ফেইব্রেইট ব্র্যান্ড না। আমার নির্দিস্ট কোনো পছন্দের ব্র্যান্ড নেই। যা ভালো লাগে , তাঁর ব্র্যান্ডের দিকে তাকাই না। এমনকি ননব্যন্ডেড হলেও কোনো আপত্তি নেই। যা পছন্দ হয় চোখ বন্ধ করে কিনে ফেলি। হিউগো বস্ আসলে আমার হাবির ফেইব্রেইট ব্র্যান্ড। তিনি চান্স পেলেই পারফিউম থেকে শুরু করে টি শার্ট, মেন ওয়্যারের যাবতীয় জিনিস হিউগো বস্ থেকে কিনে বসে থাকেন। কয়েকদিন আগে এই জাম্পস্যুটটা তিনিই আমাকে গিফ্ট করেছেন। যাই হোক, ফিরে আসি আন্টির প্যাচালিতে। আমার জাম্পস্যুটের দিকে তির্যক চোখে তাকিয়ে জানতে চাইলেন কোথা থেকে কিনেছি।এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। আন্টি সচরাচর দেখা হলেই আমার পরনের পোশাক কিংবা জুয়েলারি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, কোথা থেকে কেনা, কতো দাম। আমি উত্তর দিলাম এটা হিউগো বস্এর শোরুম থেকেই নেয়া। তখন মুখ ভেচকিয়ে কটাক্ষ করে বলতে থাকলেন, ‘আমার বৌমাকেও দেখি এত এত পয়সা খরচ করে এইসব ব্র্যান্ড ফ্যান্ড কিনে। আজকাল মেয়েদের চাল চুলা না থাকলেও ফুটানির শেষ নাই।’ চাল চুলা নাই বলাতে ভিষন গায়ে লেগে গেলো। ভেবেছিলাম সিনিয়র পার্সনের মুখে মুখে কথা বলবোনা। কিন্তু কথাগুলো যেনো তিনি একেবারে মুখে তুলে দিলেন। বললাম ‘আন্টি , আপনার মুখেই শোনা যে আপনার বৌমা জব করে। বেশ অবস্থাপন্ন ঘরের একমাত্র আদরের মেয়ে। তাহলে চাল চুলা নাই কথাটা বোধহয় ভুল হয়ে গেলো । চাল আর চুলা তো আছেই, সেই সাথে তাঁর কাছে গোস্তও আছে, তাই সে মজায় মজায় বিরিয়ানি রান্না করে খাচ্ছে। যা দেখে আপনার গায়ে জ্বালাপোড়া হচ্ছে।’ জ্বালাপোড়া শব্দটা ব্যাবহার করায় আন্টি তেলে বেগুনে জ্বলে গেলেন। আমাকে লম্বা লেকচার শুনিয়ে দিলেন। লেকচারের মধ্যে গাদাখানেক মহান পুরুষ আর মহিয়সী নারীর নাম টানলেন উদাহরন হিসেবে। আন্টির ভাষায় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখানো এই ব্যাক্তিগন খুব সাধারন জীবন যাপন করতেন। তাঁরা আমার মতো কিংবা আন্টির পুত্রবধুর মতো ফুটানি করতেননা। এইসব সাধারন জীবন যাপন করা অসাধারন মানুষদের এত লম্বা লিস্ট আন্টি টানলেন, যে আমি এখন মনে করে সবার নাম বলতে পারবোনা। যে দুইজনের নাম আপাতত মনে পরছে, তাদের একজন হলেন বিল গেটস আরেকজন শহীদ জিয়াউর রাহমান। উদাহরনের ল্যাজ ধরেই উনার কাছে জানলাম শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে উনার স্যুটকেইস থেকে নাকি অতি সাধারন কাপড়চোপড়, এমনকি ছেঁড়া গেন্জিও পাওয়া গিয়েছিলো। যাই হোক, বড় বড় খ্যাতিমান লোকের উদাহরনের লম্বা লিস্ট শেষ করে উনি নিজের নামটাও যোগ করে বললেন ‘আমার তো টাকা পয়সা সবই ছিলো, কিন্তু আমি কখনো অপচয় করতাম না’। কথা শোনার পরে আমি উত্তর করলাম ‘ আন্টি, আপনার মুখেই শুনেছি যে আপনে সারাজীবনে কখনো বাইরে কাজ করেননাই, যেটা আপনার পুত্রবধু করছে। সুতারাং আপনার টাকাপয়সা ছিলো, কথাটা পুরাপুরি সঠিক নয়। টাকা পয়সা হয়ত ছিলো আপনার হাজবেন্ডের। যাই হোক, কার টাকা সেটা কোনো সমস্যা না, সমস্যা হচ্ছে যৌবনে আপনার আর্থিক সামর্থ্য থাকা শর্তেও আপনে অতিশয় সাধারণ জীবন যাপন করেছেন। তার কারন আপনার হাজবেন্ডের আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও সম্ভবত যেটা ছিলো না, সেটা হচ্ছে মানসিক সামর্থ্য। (কিপটা শব্দটা ব্যাবহার না করে ভদ্র ভাষায় বললাম )। কিন্তু বয়সের চাহিদা অনুযায়ী আপনার শখ ছিলো ষোলো আনা। আর আপনে যাদের উদাহরন টানলেন, তাদের প্রত্যেকের একটা স্বীকৃত সন্মানিত জায়গা আছে ইতিহাসে কিংবা সমাজে। বিল গেট্স সাধারণ বা ক্যাজুয়্যাল পোশাকে বড় বড় প্রোগ্রামে এ্যাটেন্ড করলে মানুষ উনাকে বাহবাই দিবে। কারন উনি বিল গেট্স। শহীদ জিয়াউর রহমান একজন মহান নেতা। ছেড়া গেন্জি পরলেও ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরেই লেখা থাকবে। আর আমি বা আপনে ছেড়াফাড়া কাপড় পরলেই আমরা বিল গেট্স কিংবা শহীদ জিয়া হয়ে যাবোনা। বরং অনেকেই হয়ত ক্ষ্যাত অথবা ল্যাবেন্ডিস বলে আমাদের তিরস্কার করবে। আমি যেহেতু রোজগেরে গিন্নি, সাজতে বা সুন্দর পোশাক পরতেও ভালোবাসি। তাহলে কেনোইবা ক্ষ্যাত, ল্যাবেন্ডিস এইসব তখমা গায়ে মাখতে যাবো। আপনার ছেলের বউয়ের ক্ষেত্রটাও এইরকম।’ আন্টি নিজের মতবাদ জাহীর করেই গেলেন। আসলে এছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই বেচারীর। একটা সান্তনা তো বানাতে হবে। তাই ‘আমি অপচয় করিনা’ এটাই তাঁর বড় সান্তনা।

জ্বী হ্যাঁ , পৃথিবীতে এরকমও অনেক মেয়ে আছে যাদের সাধারন জীবন যাপনই পছন্দ। আমার মাকে আমি কখোনো হেভি সাজতে দেখিনাই। আমি যেমন বাইরে গেলেই দুই হাত ভর্তি করে শপিং করি, এমনটা আমি আমার মা কে কখোনো দেখিনাই। কিন্তু এই নিয়ে আমি তাকে কখনো অন্যের সমালোচনা করতেও শুনিনাই। কে কোন ব্র্যান্ড পরলো, কে অপচয় করলো, কে কি করলো এসব নিয়ে কোনো কমেন্ট করা তো পরের কথা, মাথা ব্যাথাই ছিলোনা তাঁর । সত্যিই এরকম কিছু মানুষ আছে যাদের এসব ব্যাপারে কোনো সৌখিনতা নেই। অন্যদের দেখে জ্বালা পড়া বা আফসোসও হয়না তাদের।
আরেকটা কথাও আমি আন্টিকে মেনশন করলাম, ‘আপনার ছেলের বউও একদিন আপনার মতো শ্বাসুমা হবে। দেখবেন, তাঁর নিজের ছেলের বউয়ের এইসব ছোটমোট ব্যাপার দেখে চোখ টাটবেনা। তার কারন সে তার জীবনকে উপোভোগ করছে, তাই অন্যের ভালো দেখে, খুশি দেখে জ্বলুনিটাও তাঁর হবেনা। জ্বলে তারাই, যাদের শখ ছিলো বা আছে ষোলো আনার উপরে দু আনা বেশি।
কিন্তু হয় আর্থিক কিংবা মানসিক সামর্থ্য নাই।আসলে আর্থিক বা মানসিক সামর্থ্য কম থাকাটা অপরাধ নয়। অপরাধ সেই অসামর্থ্যকে ঢাকার জন্যে ইর্ষাবসত অন্যের সমালোচনা করা। আমার কাছে এই আচরনকে প্রচন্ড হীনমন্যতা মনে হয়। যে সময়টা আপনে অন্যদের বিষয়ে সমালোচনায় নষ্ট করছেন, সেই সময়টা তো আপনে নিজের অবস্থার উন্নতির কথা ভেবে একটা উপায় বের করতে পারেন। আজকাল ঘরে বসেও মানুষ কতকি আয়রোজগারের পথ করছে। তাহলেও তো নিজের অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো যায়।অন্যের ডাটফাট দেখে এ্যাটলিস্ট গায়ে জ্বালাটা আর ধরবেনা।
যাই হোক, আসলে আমরা নারীরা যতদিন না নিজের অবস্থার পরিবর্তনে স্বয়ং সচেস্ট হবো, ততদিন আমাদের হীনমন্যতা, ফার্স্ট্রেশান দূর হবেনা। আর হীনমন্যতা আসে স্বাধীনতার অভাব থেকে। আর্থিক ও মানসিক স্বাধীনতা মানুষের মনকে অনেক প্রশ্বস্ত করে।যে মানুষটা মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে, অন্যের আকাশে উঁকি পর্যন্ত মারার টাইম তাঁর কাছে নাই। অন্যকে নিয়ে মাথা ঘামানো, অন্যের পারসনাল ব্যাপার নিয়ে নেগেটিভ মন্তব্য করা ইর্ষাপরায়নতার এবং হীনমন্যতার লক্ষণ। আনফরটুনেটলি অনেক নারী নিজের অবস্থার পরিবর্তেনর কথা না ভেবে এই ইর্ষাপরায়নতাকে আঁকরে ধরে থেকে যায়, যা তাঁর ব্যাক্তিত্বের অন্তরায়। অথচ কোনো নারী যদি নিজেকে খানিকটা প্রায়োরিটি দিয়ে তাঁর ছোটো খাটো চাওয়া গুলো পুরন করে, কিছুটা সময় প্রিয় মানুষগুলোর সাথে স্পেন্ড করে, একটু ভালো থাকার জন্য সচেস্ট হয়, তাহলেই তাঁর আর অন্যের সুখে কস্ট হবেনা। আর এই ভালো থাকার উপায় নিজেকেই বের করে নিতে হবে। আর্থিক সামর্থ্য নাই অথচ শখ আছে সবকিছুতেই, সেক্ষেত্রে নিজে এফোর্ট দিন। নিজের পরিচয় তৈরী করুন। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ডিজিটাল যুগে আর্থিক ভাবে সামর্থ্যবান হতে ঘরের বাইরে যাওয়ারও প্রয়োজন পরেনা। আর মানসিক সামর্থ্য কম থাকলে বা সোজা ভাষায় পয়সা খরচ করতে ইচ্ছা না করলে অন্যের দিকে তাকাবেন না। তাহলে কস্ট এবং জ্বলুনিটা কম হবে। পারলে নিজের কৃপনতা দূর করতে মেডিকেশান করতে পারেন। কিন্তু দয়া করে অন্য কারোর ব্যাপারে, কে অপচয় করলো, কে ফুটানি দেখালো, এসব নিয়ে কথা বলবেননা। সেটা আপনারই হীনমন্যতা আর হিংসাত্বক মনের পরিচয়। উদাহরন হিসেবে আন্টির কথাই ধরি না কেনো ! আন্টির ভাষ্যমতে তাঁর যৌবনে আর্থিক সামর্থ থাকা শর্তেও তিনি খুব সাধারণ জীবন যাপন করেছেন। আমার মা বা অন্য অনেক নারী আছে, যাদের সিম্প্লিসিটি পছন্দ, তাদের মত নিশ্চয়ই আন্টি স্বেচ্ছায় সিম্লিসিটিকে বরন করেনি। সেটা হলে অন্তত অন্যের সাজসজ্জা বা আনন্দ দেখে এতো জ্বালা হতোনা। হয়ত যৌবনে উনার একটা টুকটুকে লাল শাড়ি দেখে খুব ভালো লেগেছিলো। কৃপনতার ঠেলায় সেটা কিনেননাই, এখন মাঝবয়সে এসে যখন দেখছে বৌমা লাল শাড়ি পরে সিনামায় যাচ্ছে, ফ্রেন্ডদের সাথে পার্টি করছে কিংবা বাইরে জব করছে, নিজের পয়সা নিজে স্বাধীনভাবে খরচ করছে, তখন তিনি মন থেকে মানতে পারছেননা, জ্বলে পুরে অঙ্গার হচ্ছেন। হায় ! লাল শাড়ি পরে ঢং করার বয়সটাও বুঝি শেষ! অথচ এই নিখাঁত ক্ষতিহীন আনন্দ গুলো তিনি যৌবনে পেলে পুত্রবধুকে বা অন্য কাওকে দেখে তাঁর হিংসার উদ্রেক হতোনা। বরং অন্যের এই আনন্দের মাঝে নিজেকে খুজে পেতেন তিনি। তাই নিজের মনকে মুক্ত করে দিন। সংকীর্ণতার অন্ধকারে মন কখনো প্রশ্বস্ততা পায়না। নিজের বা অন্যের ক্ষতি না করে যার যা ভালো লাগে করুন। মন চাইলে সাজুন, মন না চাইলে নাই, মন চাইলে সিনামায় যান অথবা ঘরে বসে মুভি দেখুন, বই পড়ুন, লেখালেখি করুন, বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করুন, শপিংয়ে যান, ঘুরে বেরান, tik tok করুন, গলা ছেড়ে গান করুন, পছন্দের রেসিপি ট্রাই করুন, ফেইসবুকে ছবি আপলোড করুন , বাইরে জব করুন, ঘরে অনলাইন বিজনেস করুন, ইউটিউবে চ্যানেল খুলে ফেলুন, ফটোগ্রাফিং করুন, জিম করুন, গার্ডেনিং করুন, নিজের ভালো থাকাকে প্রায়োরিটি দিন সবার আগে। কিন্তু যেটা করবেননা সেটা হলো নিজের ফার্স্ট্রেশান বা ব্যার্থতা ঢাকতে অন্যের প্রতি জাজমেন্ট। মনে রাখবেন, যে যার মতো আছে। কেও যদি নিজেকে সুন্দভাবে প্রেজেন্ট করে রাখে, তবে সেটা তাঁর সামর্থ আছে বলেই করেছে এবং নিজের টাকায়ই করেছে। আপনার টাকায় নয়। আর আপনার কাছে কোনো মতামতও সে চায়নি। প্রত্যেকে যে যার মতো থাকুন। নিজের ইচ্ছে গুলোকে প্রজাপতির মতো ডানা মেলতে দিন। দেখবেন কষ্ট, ফার্স্ট্রেশান সব কর্পুরের মতো হাওয়ায় মিশে গেছে। মনকে আলোকিত করুন। মুক্তি মিলবে সেই আলোয়।
[17:13, 22/12/2020] Humayra Nazib: মিডিয়া কিংবা ডিজিটাল যুগে আর্থিক ভাবে সামর্থ্যবান হতে ঘরের বাইরে যাওয়ারও প্রয়োজন পরেনা। আর মানসিক সামর্থ্য কম থাকলে বা সোজা ভাষায় পয়সা খরচ করতে ইচ্ছা না করলে অন্যের দিকে তাকাবেন না। তাহলে কস্ট এবং জ্বলুনিটা কম হবে। পারলে নিজের কৃপনতা দূর করতে মেডিকেশান করতে পারেন। কিন্তু দয়া করে অন্য কারোর ব্যাপারে, কে অপচয় করলো, কে ফুটানি দেখালো, এসব নিয়ে কথা বলবেননা। সেটা আপনারই হীনমন্যতা আর হিংসাত্বক মনের পরিচয়। উদাহরন হিসেবে আন্টির কথাই ধরি না কেনো ! আন্টির ভাষ্যমতে তাঁর যৌবনে আর্থিক সামর্থ থাকা শর্তেও তিনি খুব সাধারণ জীবন যাপন করেছেন। আমার মা বা অন্য অনেক নারী আছে, যাদের সিম্প্লিসিটি পছন্দ, তাদের মত নিশ্চয়ই আন্টি স্বেচ্ছায় সিম্লিসিটিকে বরন করেনি। সেটা হলে অন্তত অন্যের সাজসজ্জা বা আনন্দ দেখে এতো জ্বালা হতোনা। হয়ত যৌবনে উনার একটা টুকটুকে লাল শাড়ি দেখে খুব ভালো লেগেছিলো।কৃপনতার ঠেলায় সেটা কিনেননাই, এখন মাঝবয়সে এসে যখন দেখছে বৌমা লাল শাড়ি পরে সিনামায় যাচ্ছে, ফ্রেন্ডদের সাথে পার্টি করছে কিংবা বাইরে জব করছে, নিজের পয়সা নিজে স্বাধীনভাবে খরচ করছে, তখন তিনি মন থেকে মানতে পারছেননা, জ্বলে পুরে অঙ্গার হচ্ছেন। হায় ! লাল শাড়ি পরে ঢং করার বয়সটাও বুঝি শেষ! অথচ এই নিখাঁত ক্ষতিহীন আনন্দ গুলো তিনি যৌবনে পেলে পুত্রবধুকে বা অন্য কাওকে দেখে তাঁর হিংসার উদ্রেক হতোনা। বরং অন্যের এই আনন্দের মাঝে নিজেকে খুজে পেতেন তিনি। তাই নিজের মনকে মুক্ত করে দিন। সংকীর্ণতার অন্ধকারে মন কখনো প্রশ্বস্ততা পায়না। নিজের বা অন্যের ক্ষতি না করে যার যা ভালো লাগে করুন। মন চাইলে সাজুন, মন না চাইলে নাই, মন চাইলে সিনামায় যান অথবা ঘরে বসে মুভি দেখুন, বই পড়ুন, লেখালেখি করুন, বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করুন, শপিংয়ে যান, ঘুরে বেরান, tik tok করুন, গলা ছেড়ে গান করুন, পছন্দের রেসিপি ট্রাই করুন, ফেইসবুকে ছবি আপলোড করুন , বাইরে জব করুন, ঘরে অনলাইন বিজনেস করুন, ইউটিউবে চ্যানেল খুলে ফেলুন, ফটোগ্রাফিং করুন, জিম করুন, গার্ডেনিং করুন, নিজের ভালো থাকাকে প্রায়োরিটি দিন সবার আগে। কিন্তু যেটা করবেননা সেটা হলো নিজের ফার্স্ট্রেশান বা ব্যার্থতা ঢাকতে অন্যের প্রতি জাজমেন্ট। মনে রাখবেন, যে যার মতো আছে। কেও যদি নিজেকে সুন্দভাবে প্রেজেন্ট করে রাখে, তবে সেটা তাঁর সামর্থ আছে বলেই করেছে এবং নিজের টাকায়ই করেছে। আপনার টাকায় নয়। আর আপনার কাছে কোনো মতামতও সে চায়নি। প্রত্যেকে যে যার মতো থাকুন। নিজের ইচ্ছে গুলোকে প্রজাপতির মতো ডানা মেলতে দিন। দেখবেন কষ্ট, ফার্স্ট্রেশান সব কর্পুরের মতো হাওয়ায় মিশে গেছে। মনকে আলোকিত করুন। মুক্তি মিলবে সেই আলোয়।

আর্কাইভ

April 2021
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930