কাজগুলো হোক চালিকা শক্তি

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২১

কাজগুলো হোক চালিকা শক্তি

হুমায়রা নাজিব নদী ।

 

আজকের আর্টিকেলটা কেবল নারীদের প্রেক্ষাপট থেকে নয়, নারী পুরুষ উভয়ের প্রেক্ষাপট থেকেই লেখাটা লিখছি। আমরা প্রায়শই একটা কথা শুনে থাকি, তা হচ্ছে ‘বোবার শত্রু নাই’। একটু ভেবে বলুন তো ? আসলেই কি বোবার কোনো শত্রু নেই? আমি তো দেখি কেও চুপচাপ থেকে তার নিজের কাজ করে গেলেও চলার পথে অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা। সেই প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলার ক্ষমতা হয়তবা একেকটা মানুষের একেক রকম। কিন্তু কাজ যে করবে, তাঁ চলার পথে প্রতিবন্ধকতা, সমালোচনা, বাধাবিপত্তি থাকবেই। আমার কাছে মনে হয় কথায় যত না শত্রুতা বাড়ে, তারচেয়ে ঢের বেশি শত্রুর দেখা মিলবে যখন একজন মানুষ কোনো কাজে ইনভল্ভড থাকবে। তাই বোবারও শত্রু আছে। কিন্তু তাই বলে কি কাজপাগল মানুষগুলো শত্রুর ভয়ে কাজ ছাড়া বসে থাকবে? মোটেও সেরকমটা নয়। বরং প্রতিটা মানুষকে তাঁর লক্ষ্যপথে স্থির থাকতে হবে, তেজস্বী সূর্যের মতো। আমরা আমাদের নিজস্ব কাজগুলোর প্রতি যত মনোনিবেশ করবো, আমাদের উপরে নেতিবাচক পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব ততই কম পরবে। মঙ্গলকর কাজের বলয় কেবল আশেপাশের নেতিবাচক প্রভাবকেই মোকাবেলা করেনা, বরং আমাদের আত্নবিশ্বাসকে শতগুণে বাড়িয়ে দেয়। আর আত্নবিশ্বাস এমন এক অনুভূতি, যা মানুষের ভেতরকার ফার্স্ট্রেশানকে কমাতে বহুগুনে ভুমিকা রাখে। তাই কাজের মাঝে ব্যাস্ত থাকা মানুষগুলোর ভেতরে খুব কম ক্ষেত্রেই ফার্স্ট্রেশান কাজ করে। আর কোনো কারনে ফার্স্ট্রেশান চলে আসলেও তা মোকাবেলা বা নিয়ন্ত্রণের উপায় এই মানুষগুলোর জানা থাকে।

 

এবার আসছি পারিপার্শ্বিক প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে।আমাদের সমাজের কিছু মানুষ আছে যাদের নিজেদের সমস্যা গুলোর থেকে বেড়িয়ে আসার পথটা জানা নেই, অথবা জানা থাকলেও তা ওভারকাম করার বিশেষ কোনো উদ্যোগ বা ইচ্ছা নেই। এই মানুষ গুলো সাধারণত সার্বক্ষণিক হতাশা বা ফার্স্ট্রেশানের মধ্যে দিয়ে তাদের জীবন অতিক্রম করে। কোনো রকম ভালো উন্নয়নশীল বা সৃস্টিশীল কাজের মধ্যে থাকলে এই ফার্স্ট্রেশান বা হতাশা গুলোর অনেকটাই অনায়াসে লাঘব করা সম্ভব। কিন্তু এই মানুষ গুলো তা করেনা, বরং তাদের এই ফার্স্ট্রেশানকে স্প্রেড আউট করতে চায় অন্যজনের মধ্যে। আশেপাশে যারা নিজের কাজে ব্যাস্ত, বিভিন্নভাবে তাদেরকে হেয় করে অথবা ছোট অথবা অর্থহীন সমালোচনা করে এরা চেস্টা করে আশেপাশে নেগেটিভিটি ছড়াতে।নিজেদের ফার্স্ট্রেশানকে বা অপারগতাকে ঢাকতে এরা এহেন আচরন করে অন্যের কাজে বিঘ্ন ঘটিয়েথাকে যা সত্যিই গ্রহণযোগ্য নয়। সেদিন প্রথম আলো পোর্টালে একটা নিউজ দেখলাম জনৈকা চলচিত্র অভিনেত্রী, এক সময়কার সুপারস্টার সম্প্রতি সাংবাদিকতায় নাম লিখিয়েছেন। কোনো এক সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে তিনি কাজ করবেন। এবং বাংলাদেশের প্রথম সারির মাধ্যমেই সংবাদটা এসেছে। কমেন্ট বক্সে খেয়াল করে দেখলাম নিরানব্বই পার্সেন্টই নেগেটিভ কমেন্ট। আশ্চর্য হয়ে ভাবলাম একজন মানুষ নতুন কোনো কাজে নিজেকে ইনভলভ করছেন, তাতেও অন্যের কত সমস্যা। ইংরেজিতে ‘ওয়ার্কহলিক’ বলে একটা শব্দ আছে।ওয়ার্কহলিক লোকজন এ্যাবসোলিউটলি কাজ ছাড়া বেকার বসে থাকতে পারেননা। কাজ তাদের নেশা। কাজ ছাড়া তাদেরকে প্রচন্ডরকম ফার্স্ট্রেশান পেয়ে বসে।তাই জীবনের প্রতিটা স্টেজে তারা কোনো না কোনো কাজে নিজেকে ইনভল্ভড রেখে ভালো থাকে।হয়তবা জনৈকা সুপারস্টারের ক্ষেত্রেও এমনটাই হবে। সারা জীবন কাজ করে এখন নিজেকে বেকার বসিয়ে রাখতে পারছেননা। তাই নতুন নতুন কাজে নিজেকে ইনভল্ভড করছেন।

 

জনৈক রাজনীতিবীদের বডি বিল্ডিং নিয়ে জনগনের ঘুম হারাম। বুঝলাম জনগন জনাবের বাবার পরিচয়ের কারনে তাঁর কাছে আরো কিছু বেশি ইন্টেলেকচুয়াল আচরন বা সিরিয়াসনেস আশা করে। কিন্তু পজিটিভলি তো এমনটাও ভাবা যায় যে তিনি চুরি ডাকাতি না করে নিজের বডি বিল্ডিং বা সেল্ফ ডেভেলপমেন্টে নিজেকে ইনভল্ভড রাখছেন।ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে কাওকে কোনো কাজে ইনভল্ভড থাকতে দেখলে কিছু লোকের কাছে এদের চলন হয়ে যায় বাঁকা। আসলে এসব লোকের নজর বড্ড বেশি বাঁকা।এ পি জে আব্দুল কালাম স্যারের একটা উক্তি আমার খুব পছন্দের।

 

‘কাজের কারণে আমরা কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ি না,আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি দুশ্চিন্তা, হতাশা এবং বিরক্তির কারনে।’
আসলে নিজের প্রোডাক্টিভ কাজগুলো মানুষকে যতখানি আনন্দ দেয়, অনুপ্রেরণা দেয়, অন্তঃশক্তি যোগায়, কাজ না করে অন্যের সমালোচনা করে জীবন যাপন মানুষকে ঠিক ততখানিই ফার্স্ট্রেশান এনে দেয়। এই ফার্স্ট্রেশানকে ঢাকতে মানুষ নানা রকম বিশৃঙ্খল এবং ইনসিকিউর আচরন করে। প্রোডাক্টিভ কাজ মানুষের অবস্থানকে অনেক বেশি শক্ত করে দেয়। মানসিক অবসাদ আর ক্লান্তিকে দূর করে দেয়। তাই ভালো কাজে ইনভল্ভেন্স থাকাটা মানসিক ও শারীরিক উভয় সাস্থ্যের জন্য মঙ্গলকর। এক প্রকার রিমেডিও বলতে পারেন। এই রিমেডিই হোক আমাদের নিজেকে ভালো রাখার উপায়। আমাদের কাজগুলোই হোক আমাদের পরিচয়, চালিকাশক্তি।