একজন সাহারা খাতুন

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

একজন সাহারা খাতুন

ঝর্ণা মনি।ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন আর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেড নিয়ে সবেমাত্র ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় এসেই সরকার গঠনেও ব্যাপক চমক দেখান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুদায়িত্ব তুলে দেন আইনজীবী সাহারা খাতুনের কাঁধে। বাংলাদেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১২ সাল পর্যন্ত। ওই সময় মন্ত্রণালয়ের রদবদল হলে নতুন দায়িত্ব পান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের জন্ম ১৯৪৩ সালের পয়লা মার্চ, ঢাকার কুর্মিটোলায়। বাবা আব্দুল আজিজ ও মা টুরজান নেসা। সাহারা খাতুন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য। ঢাকা-১৮ আসনের এই সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকেরও।

রাজপথ থেকে জাতীয় সংসদ:

রাজপথের এই লড়াকু সৈনিক দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সামনের কাতারে। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৯৬০ সালে ইস্ট-পাকিস্তান বোর্ডের অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন, সিটি নাইট কলেজে থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিভাগে বিএ (ডিগ্রি) অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হলেও তিনি কোর্স শেষ করেননি। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে সেন্ট্রাল ল’কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্র জীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের ছাত্রদের মধ্যে একটি নির্বাচনে তিনি ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। সেটি ছিল তার জীবনের প্রথম নির্বাচন। ১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগের মহিলা শাখা যুক্ত হন। মহান একাত্তরের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দিনেও তিনি ছিলেন সামনের সারিতেই। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিলেন।

১৯৮১ সালে সুপ্রিম কোর্টে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু। প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ।রাজপথে আন্দোলনের জন্য তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছে কয়েকবার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের অন্য অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় সাহারা খাতুনকে। ওইসময় দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে সাহারা খাতুন আবারো গ্রেপ্তার হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য সাহারা খাতুন কল্যাণমূলক রাজনীতির কারণে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাহারা নিজেও রাজনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রাজপথ, কারাগারের রোজনামজার পর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে তাকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ব্যাংকক স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২৫ মিনিট) থাইল্যান্ডের বামুনগ্রাদ হাসপাতালে নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ। থেমে গেল ৭৭ বছরের সংগ্রামী পথচলা।