অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা নিষ্পত্তিতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল করা দরকার: গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার

প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২০

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা নিষ্পত্তিতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল করা দরকার: গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার

বেগম টুয়েন্টিফোর।ধর্ষকদের অন্য কোনো পরিচয় থাকতে পারে না। তাদের এই নিকৃষ্টতম কাজের জন্য কোনো ধরণের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে সবাইকে অবস্থান নিতে হবে। আদালতের মাধ্যমে বিচারের রায় হওয়ার পর তা দ্রুত কার্যকরও করতে হবে। তাহলে এই সমাজে নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন কমে আসবে বলে মনে করেন আলোচকরা। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) একটি দৈনিকের আয়োজনে সংলাপে এসব কথা বলেন তারা। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা  সরকার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া। দৈনিক ভোরের পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন,  আজকের বিষয়টি অনেক ঝটিল ও অনেক কঠিন। আপনারা জানেন ১৯৬০ সালের দণ্ডবিধি ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি আজকে ১০ বছর ধরে আছে এবং বিভিন্নভাবে দেশে নারীরা সবসময় নারীরা নির্যাতিত হয়ে আসছে। শুধু নারীরাই নয় সে ছয় মাস বয়সের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের নারীরা এই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পৃথিবীর শুরু থেকেই অতীতে এটা ঘটেছে এবং বর্তমানেও এটা বিরাজিত। সেসব প্রেক্ষাপট লক্ষ করলে দেখা যাবে বিভিন্নভাবেই নারীরা নির্যাতিত হয়ে আসছে। আমি এটার জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী করব না কারণ আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্ন। দেশের প্রথম প্রণীত বিশেষ বিধানে নাম ছিল ক্রুয়েলিটি টু উইমেন্স অডিয়েন্স এটা ১৯৮৩ সালে প্রচলিত ছিল। পর্যায়ক্রমে ১৯৮৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের বিধানগুলো হয়ে আসছে। তারপর ২০০০ সালে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন হলো এবং সর্বশেষ সংশোধনী ২০০৩ ছিল সালে। এখন আমার পরামর্শ যেটা বলতে চায় সেটা হলো, বিভিন্ন জেলায় অর্থাৎ দেশের ৬৪টি জেলার সব জায়গায় নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল, মানব পাচার ও শিশু পাচার এই তিনটার বিচার একটি আদালতেই করা হয়। পর্যায়ক্রমে এই মামলা গুলো ট্রাইব্যুনালে গিয়ে শেষ হতে পারেনা। এতো মামলা থাকে যে বিচারকের পক্ষে একটার পর একটা মামলার শেষ অব্দি যাওয়া পর্যন্ত তার পক্ষে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সেই জায়গাগুলাতে এই যে নারী শিশু ধর্ষণের বিচারিক আদলতে যদি অবসরপ্রাপ্ত যেসব বিচারকবৃন্দ আছে তাদেরকে যদি এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া শুধু এই নারী ও শিশু ধর্ষণের মামলা গুলোয় প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের বসিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায় তাহলে অনেক এই ক্ষেত্রে অনেক আগানো যাবে। ধর্ষক কারো সন্তান, কারো ভাই, কারো পরিবারের সন্তান হতে পারে এটা আমাদের ভাবতে অনেক কষ্ট হয় তারপরেও এটাই সত্য কথা যে, একজন ধর্ষকের জন্ম কোন না কোন পরিবার থেকেই হয় এবং প্রথম থেকেই পরিবার এখানে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। একটা সন্তান কিন্তু ছোট বেলা থেকে ধর্ষক হয়ে উঠেনা। সেই জায়গাগুলো থেকে আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে আরও একটু ভাবা দরকার। যে আদলতে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলা থাকে সেখানে যদি এই মামলাগুলোর উপর বেশি গুরুত্বারোপ করা হয় এবং এই মামলাগুলো যদি দ্রুত গতিতে সুসম্পন্ন করা যায় এবং সেই সব মামলা গুলোকে যদি বিচারের আওয়াতায় আনা যায় এবং এতে আমরা সার্বিক দিক থেকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছাতে পারবো।