´ভালোবাসার মা´ ।।হুমায়রা নাজিব নদী 

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২১

´ভালোবাসার মা´ ।।হুমায়রা নাজিব নদী 
হুমায়রা নাজিব নদী 
===
ভালোবাসার মা, কেমন আছো তুমি?
জানি বলবে ´ভালো আছি…
সারাদিন পরিবারের জন্যে হাড়ভাঙ্গা অক্লান্ত পরিশ্রম
আর নিরলস খাটুনির পর তুমি বড্ড শ্রান্ত।
তবু মুখ ফুটে কোনোদিনও বলবেনা জানি
‘আমার একটু বিশ্রাম চাই…´
মা গো, তোমার মায়াবী দুচোখের নীচে
লেপ্টে থাকা কালিমা বলে দেয়
কতো রাত নির্ঘুম কেটেছে তোমার।
নাওয়া খাওয়া ভুলে অমন নিঃস্বার্থ সেবা,
কেমন করে পারো তুমি?
ও মা, সেই শেষ কবে টিপ পরেছিলে বলোতো ?
শেষ কবে চুল বেঁধেছিলে শখের কৌশলে?
হাত ভর্তি কাঁচের চুরি যে তোমার
ভিষন পছন্দের..
তুলে রাখা শাড়িগুলোর দুএকটার বুঝি
ভাঁজটাও ভাঙ্গার সময় মেলেনি।
কিভাবে মিলবে, নিজেকে আর্শীতে দেখে নেয়ার
সময়টাও যে মেলে না তোমার!
সমস্ত দিন কাটে সেবা আর সুশ্রুষায়।
মা, আমরা যখন হৈহুল্লোড় খুনসুটিতে মাতি
তুমি তখন মুচকি হাসো,
তোমার কি তখন ছেলেবেলার কথা মনে পরে?
কখনো কি ছেলেবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে?
মা রে, কখনো কখনো বড্ড বেশি বিক্ষিপ্ত দেখায় তোমায়,
নিজের সমস্ত না বলতে পারা কষ্টগুলো
তোমায় চেপে ধরে ধাঁরালো সরাশির মতোন।
পরক্ষনেই আবার নিজেকে সামলে পথচলা,
আবার সব কষ্ট চেপে হাসিমুখে
সেবিকার জীবনে প্রত্যাবর্তন তোমার।
মা গো,একটা সময় যে খুব কবিতা পড়তে,
বৃষ্টির সুরে সুর ধরতে,
চাঁদের আলোয় জোছনা বিলাস করতে?
ওসব কি এখন বড়বাড়ির সিঁন্দুকে
দামী গহনাগুলোর সাথে লুকিয়ে রেখেছো?
নাকি হারিয়ে ফেলেছো বলো তো !
মাঝে মাঝে খোলা আকাশের দিকে চেয়ে
অমন করে কি খোঁজো মা?
নিজের পুরোনো শখ গুলোকে?
নাকি হাঁরিয়ে ফেলা নিজেকে ?
নিজেকে এতোটা বদলে নিয়েছ
অবহেলায় নাকি অভিমানে?
অনেক তো হলো, একটু জিড়িয়ে নাও..
কিছুটা ভালোবাসো নিজেকে।
খুব জানতে ইচ্ছে করে,
সেবিকার জীবনে তুমি কতোটুকু সুখী?
নাকি সেবাকেই সুখের তখমা দিয়েছ ?
===
০৯ মে ২০২১, লন্ডন ।