অনুমোদনহীন দন্তচিকিৎসক এবং বাংলাদেশের পেক্ষাপট

প্রকাশিত: ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২১

অনুমোদনহীন দন্তচিকিৎসক এবং বাংলাদেশের পেক্ষাপট

ডাঃ ইজাজুল কবির হৃদয় ।

দাঁত আমাদের দেহের অন্যতম একটি মূল্যবান অংশ, দাঁত এর গুরুত্ব এতই যে মেডিকেল সাইন্সে সাধারণ এম.বি.বি.এস এর সাথে সাথে শুধু দাঁতের গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৬১ সালে বি.ডি.এস কোর্স চালু করা হয় বাংলাদেশে।

*এর পরিপেক্ষিতে বাংলাদেশে এখন প্রায় ১২ হাজার বি.এম.ডি.সি রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তার আছেন। *কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো ১২ হাজার ডেন্টাল ডাক্তার হলেও দেশে চেম্বার এর সংখ্যা তিন লক্ষাধিক!!

*শুনতে বিস্ময়কর হলেও এদেশে দাঁতের চিকিৎসার নামে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বেশিরভাগ কোয়াক, ডেন্টাল এসিস্ট্যান্ট অথবা ডিপ্লোমাকরা নামের আগে ডেন্টিস্ট অথবা ডাক্তার বসানো ভুয়া চিকিৎসকরা, এদের কারো নেই বাংলাদেশ মেডিকেল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল কতৃক কোন অনুমোদন এবং বি.ডি.এস ডিগ্রি।

*আর এসব অনুমোদনহীন হাতুড়ে চিকিৎসার কারনে সাধারণ জনগণ প্রতারণার স্বিকার হচ্ছেন, এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের অবহেলা এবং সচেতনতা এর জন্য অনেকে ভুল চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এমনকি অপমৃত্যুও হচ্ছে, এছাড়া প্রশাসন এবং নিতীনির্ধারক দের দিক থেকে ডেন্টাল চিকিৎসার ক্ষেত্রে উদাসীনতা লক্ষনীয়।।

*বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বি.ডি.এস ডিগ্রীধারী বি.এম.ডি.সি রেজিষ্ট্রেশন ছাড়া কেউ নিজেকে ডেন্টাল ডাক্তার পরিচয় দিতে পারবেন না কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসনের সম্মুখেই ভুয়া চিকিৎসকরা চেম্বার খুলে নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করে দাঁত ও মুখের চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করছেন।

বাংলাদেশ এর মত দেশে সাধারণ মানুষ এমনিতেই দাঁতের যত্নে উদাসহীন, প্র‍তিনিয়ন পান,তামাক ও সিগারেট সহ আরো বদ অভ্যাস এর জন্য দাঁতের ক্ষতি করছে অনেক মানুষ।।

সেক্ষেত্রে যদি প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর দাঁত ও মুখের চিকিৎসকের চেক আপ না করানো হয় এবং এই ভুয়া ডেন্টিস্ট এর আধিপত্য চলতে থাকে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দাঁত ও মুখের রোগে আক্রান্ত হবে এবং এদেশের রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তাররা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের দাঁত ও মুখের উন্নত চিকিৎসায় অগ্রসর হতে পারবেনা।
চলুন মুখ ও দাঁতের চিকিৎসায় রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নেই।

 

 

চিফ ডেন্টাল কনসালটেন্ট,সেন্ট্রাল বাসাবো জেনারেল হসপিটাল,সবুজবাগ, মধ্যে বাসাবো, ঢাকা।